বাংলাদেশের পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা ১০৫টিতে উন্নীত

বাংলাদেশের পতাকাবাহী সমুদ্রগামী সর্বশেষ নিবন্ধিত অয়েল ট্যাংকার ‘এমটি ওমেরা লিবার্টি’।

ইস্ট কোস্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমজেএল বাংলাদেশের মালিকানাধীন এ ট্যাংকার দেশ-বিদেশে সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনে যুক্ত হবে। নতুন ট্যাংকারটিসহ বাংলাদেশের বহরে এখন সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা ১০৫-এ উন্নীত হয়েছে। নতুন হিসেবে ‘এমটি ওমেরা লিবার্টি’ এখন দেশের সবচেয়ে বড় ট্যাংকার, সম্প্রতি এর সাময়িক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে।

নৌ-বাণিজ্য দপ্তরের তথ্যমতে, ১ লাখ ১৫ হাজার টনের ধারণ ক্ষমতার অয়েল ট্যাংকার ‘এমটি ওমেরা লিবার্টি’ নির্মাণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার দেইহান (ডিএইচ) শিপ বিল্ডিং অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং। ২০২৩ সালের ২০ জুলাই নতুন ট্যাংকারটি নির্মাণে শিপ বিল্ডার্স প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করে এমজেএল। এতে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে ট্যাংকারটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও চলতি বছর নৌ বাণিজ্য দপ্তরের নিবন্ধন পায়।

সম্প্রতি নতুন ট্যাংকারটির নামকরণ উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার দেইহান শিপইয়ার্ডে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ডেভিড কিম, দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের শিপিং বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মিনহাজুর রেজা চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন অয়েল ট্যাংকার হিসেবে এটি এখন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ট্যাংকার। প্রায় একই পরিমাণ জ্বালানি পরিবহনে সক্ষম ‘এমটি ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামের আরো একটি ট্যাংকার রয়েছে এমজেএল বাংলাদেশের, যা ২০১২ সালে তৈরি। গত বছর এটি বাংলাদেশের বহরে যুক্ত হয়।

জাহাজ নিবন্ধনকারী সংস্থা নৌ বাণিজ্য অফিসের (এমএমডি) তথ্যানুযায়ী, এক বছর আগেই বাংলাদেশের বিদেশগামী জাহাজের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়। ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের নতুন অয়েল ট্যাংকারটি জ্বালানি তেল পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন এমএমডির কর্মকর্তারা।

নৌ বাণিজ্য অফিস, চট্টগ্রামের নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন শেখ জালাল উদ্দিন গাজী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের পতাকাবাহী আরো একটি জাহাজ নিবন্ধিত হয়েছে। এখন বাংলাদেশের বিদেশগামী জাহাজের সংখ্যা ১০৫। সাময়িক নিবন্ধিত এমটি ওমেরা লিবার্টি এখন দেশের সবচেয়ে বড় ট্যাংকার।’ সবচেয়ে বেশি বাল্ক জাহাজের পর ট্যাংকার জাহাজ নিবন্ধনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনে বাংলাদেশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের নিবন্ধিত বিদেশগামী ১০৫টি জাহাজের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশের বেশি বাল্ক জাহাজ। নতুন অয়েল ট্যাংকারটি নিবন্ধনের পর দেশের সমুদ্রগামী ট্যাংকারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ছয়টি। সবচেয়ে বেশি তিনটি অয়েল ট্যাংকার রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি)।

আরও